২২
ঢাকা,১৪আগস্ট ২০২৬: বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর সাবেক প্রধান এয়ার ভাইস মার্শাল মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম, এনডিইউ, পিএসসি (অবঃ) গত ১৩ আগস্ট ২০২৬ বৃহস্পতিবার সকাল ১১ টা ৩৫ মিনিটে ঢাকা সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে বার্ধক্যজনিত কারণে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ইন্তেকাল করেন (ইন্নালিল্লাহে ওয়া ইন্না ইলাইহে রাজিউন)। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৭৪ বছর ০৬ মাস ১৩ দিন। মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী, এক কন্যা, এক পুত্র ও অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন।
ঢাকা সেনানিবাসস্থ বাংলাদেশ বিমান বাহিনী ঘাঁটি বাশার-এর প্যারেড গ্রাউন্ড-এ আজ শুক্রবার (১৪-০৮-২০২৬) মরহুমের সামরিক মর্যাদায় নামাজে জানাযা এবং ফিউনারেল প্যারেড অনুষ্ঠিত হয়। সম্মানিত সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান, এসবিপি, ওএসপি, এসজিপি, পিএসসি, নৌবাহিনী প্রধান ভাইস এডমিরাল খোন্দকার মিসবাহ উল আজীম, এনবিপি, এনপিপি, এনডিইউ, এএফডব্লিউসি, পিএসসি, এমফিল, পিএইচডি, বিমান বাহিনী প্রধান এয়ার চীফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খাঁন, বিবিপি, ওএসপি, জিইউপি, এনএসডব্লিউসি, পিএসসি এবং বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স এর পক্ষ থেকে ব্যবস্থাপনা পরিচালক কাইজার সোহেল আহমেদ অনুষ্ঠানস্থলে উপস্থিত থেকে মরহুমের কফিনে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে তাঁর প্রতি শ্রদ্ধাজ্ঞাপন করেন। এছাড়াও, অনুষ্ঠানে সাবেক বিমান বাহিনী প্রধান এয়ার ভাইস মার্শাল মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম, এনডিইউ, পিএসসি (অবঃ) এর পরিবারের সদস্যগণ, সরকারি উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাগণ, সামরিক বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাগণ এবং অন্যান্য পদবীর সদস্যবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। উক্ত অনুষ্ঠানে মরহুমের সম্মানার্থে বাংলাদেশ বিমান বাহিনী কর্তৃক ফ্লাই পাস্ট অনুষ্ঠিত হয়। ফিউনারেল প্যারেড শেষে সামরিক মর্যাদায় সাবেক বিমান বাহিনী প্রধান এয়ার ভাইস মার্শাল মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম কে বিমান বাহিনী ঘাঁটি বাশার এ অবস্থিত শাহীন কবরস্থানে দাফন করা হয়।
এয়ার ভাইস মার্শাল মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম, এনডিইউ , পিএসসি (অবঃ) ১৯৫২ সালের ০২ ফেব্রুয়ারি চাঁদপুর জেলার মতলব থানাধীন বাইশপুর গ্রামের এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতার নাম মরহুম আব্দুল আউয়াল এবং মাতার নাম হোসনে আরা বেগম। তিনি ১৯৬৭ সালে পিএএফ কলেজ, সারগোদা থেকে সিনিয়র ক্যামব্রিজ সম্পন্ন করেন। তিনি ০২ আগস্ট ১৯৬৮ সালে পাকিস্তান বিমান বাহিনী একাডেমীতে যোগদান করেন এবং ১৩ মার্চ ১৯৭১ সালে পাকিস্তান বিমান বাহিনীতে জিডি(পি) শাখায় কমিশন লাভ করেন। এছাড়াও, তিনি ১৯৭১ সালে পেশওয়ার বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বিএসসি ডিগ্রী অর্জন করেন।
তিনি ছিলেন একজন চৌকস বৈমানিক। বিমান বাহিনীতে সুদীর্ঘ কর্মজীবনে, তিনি PT-6, T-6G, Air Tourer, AN-24/26, Bell-206, FOUGA, SF-25C and AN-32 বিমান-এ সফলতার সাথে ৫০০০ ঘন্টার অধিক উড্ডয়ন করতঃ বিমান বাহিনীতে পেশাগত জীবনে, দেশ বিদেশে বিভিন্ন কোর্সে অংশগ্রহণ করেন এবং সফলতার সাথে তা সম্পন্ন করেন। এরই ধারাবাহিকতায়, তিনি ফ্লাইং ইনস্ট্রাক্টর্স কোর্স, জুনিয়র কমান্ড এন্ড স্টাফ কোর্স এবং এয়ার স্টাফ কোর্স সম্পন্ন করেন। এছাড়া, তিনি তৎকালীন সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়ন থেকে ফ্লাইং কনভারশন কোর্স অন এএন-২৪/২৬ ও ফেমিলিয়ারাইজেশন কোর্স অন এন-৩২ বিমান, যুক্তরাষ্ট্র থেকে ইন্টারন্যাশনাল ডিফেন্স ম্যানেজমেন্ট কোর্স এবং চায়না থেকে এনডিইউ কোর্স অত্যন্ত কৃতিত্বের সাথে সম্পন্ন করেন।
স্বাধীনতার পর দেশমাতৃকার টানে এয়ার ভাইস মার্শাল মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম এনডিইউ , পিএসসি (অবঃ) ২৯ মে ১৯৭২ সালে পাকিস্তান বিমান বাহিনী থেকে বাংলাদেশ বিমান বাহিনীতে যোগদান করেন। কর্মজীবনে তিনি ৩ নং স্কোয়াড্রনের অধিনায়ক, এফআইএস-এর অধিনায়ক, বাংলাদেশ বিমান বাহিনী একাডেমির প্রধান প্রশিক্ষক, ডেপুটি কমান্ড্যান্ট ও কমান্ড্যান্ট, বিমান বাহিনী ঘাঁটি বীরশ্রেষ্ঠ মতিউর রহমান ও বিমান বাহিনী ঘাঁটি বাশারের এয়ার অধিনায়ক, বিমান প্রশিক্ষণ পরিদপ্তর ও বিমান পরিচালন পরিদপ্তরের পরিচালক, ডিফেন্স সার্ভিসেস কমান্ড অ্যান্ড স্টাফ কলেজ, মিরপুর-এর এয়ার ডিএস, বাংলাদেশ বিমানের ম্যানেজিং ডিরেক্টর এবং মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশ হাইকমিশনের ডিফেন্স অ্যাটাশে হিসেবে অত্যন্ত দক্ষতা ও সুনামের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেন। পরবর্তীতে, তিনি ২০০১ সালের ০৩ জুন বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর প্রধান হিসেবে নিযুক্ত হন। দীর্ঘ ৩১ বছর ২৫ দিন কর্মজীবন শেষে বিমান বাহিনী প্রধান হিসেবে তিনি ২০০২ সালের ০৮ এপ্রিল বাংলাদেশ বিমান বাহিনী থেকে অবসর গ্রহণ করেন।
পেশাগত জীবনে এয়ার ভাইস মার্শাল মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম ছিলেন একজন দক্ষ, মেধাবী ও অনুসরণীয় বৈমানিক। বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর প্রতি তাঁর নিষ্ঠা, পেশাদারিত্ব ও দায়িত্ববোধ ছিল অনুকরণীয়। তিনি সততা, নিষ্ঠা ও দক্ষতার সঙ্গে অর্পিত দায়িত্ব পালন করে বাংলাদেশ বিমান বাহিনী তথা দেশের সেবায় গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন। ব্যক্তিজীবনে তিনি ছিলেন বিনয়ী, নিরহংকারী, সদালাপী ও পরোপকারী। তাঁর কর্মময় জীবন ও অবদান বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর সদস্যদের জন্য অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে থাকবে।
আমরা মরহুমের রূহের মাগফিরাত ও রহমত কামনা করছি এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা জ্ঞাপন করছি।